Saturday, January 3, 2015

ভালো মানুষেরা ভালো থাকুক

২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ের কথা, ডিপার্টমেন্ট থেকে ২দিনের একটা অফিশিয়াল কাম এক্সকারশান ট্যুর ছিল গিমোতে। প্রথমদিন খুবি এক্সাইটিং কাটলেও, ল্যাব থাকায় একদিন থেকেই পরদিন ভোর সকালে আমাকে ফিরে আসতে হবে। যেহেতু একা ফিরে আসবো, পাবলিক বাসে ফেরা লাগবে; কিন্তু আমার কাছে ক্যাশ ছিলনা, ওইসময় বাসভাড়া ক্যাশ পে করতে হতো। যখন খেয়াল করলাম আমার কাছে ক্যাশ ক্রোনার নেই, ততোক্ষণে গেস্ট-হাউজের ক্যাশিয়ার চলে গেছেন। ক্লোজ কলিগ যারা ছিল, কারো কাছেই একজনের বাসভাড়ার জন্য যথেষ্ট ক্যাশ নাই। রিসেপশনের মেয়েটা আন্তরিকভাবে দুঃখ জানালো, যেহেতু ক্যাশ ক্লোজড, সে সাহায্য করতে পারছে না বলে তার আফসোসটা বেশ আন্তরিক মনে হলো।
কাছাকাছি ক্যাশ মেশিন প্রায় ৩০-৪০ মিনিট হাটা পথ, অচেনা জায়গা, রাত প্রায় ১২টা। ভালোই বিপদে পড়লাম, কি করা যায়? ভাবছি। হঠাৎ মেয়েটা বল্লো, ‘তুমি আমাকে একটু সময় দাও, আমি তোমাকে নিয়ে যেতে পারবো, যেহেতু আমার গাড়ি আছে, যেতে আসতে বেশি সময় লাগবে না’। হাফ ছেড়ে বাচলাম, যদিও অপরিচিত কারো সাহায্য নিতে হচ্ছে ভেবে একটু খচখচ করছিলো মন। যাই হোক, মেয়েটা হাতের কাজ কিছুটা গুছিয়ে, অন্য কাউকে রিসেপশানের দায়িত্ব দিয়ে আসলো, ওর সাথে যাচ্ছি, মেয়েটা জার্মান, কাজের জন্য সুইডেন থাকছে, আসা যাওয়া পুরোটা সময় অনেক কথা বার্তা হলো। তো এক সময় বেশ কৌতূহলের বশেই জিজ্ঞেস করলাম, তুমিতো আমাকে চিনো না, সম্ভবত আমাদের অন্য কোনদিন আর দেখাও হবে না, তুমি আমাকে কেনো সাহায্য করলে (specially it needed lots of efforts!)।
এর উত্তরে মেয়েটা যা বলেছিলো কথাটা যেন আমার সারা জীবন মনে থাকে। মানুষের চিন্তা চেতনা, বিবেক কতটা শক্তিশালী ও পরিস্কার হতে পারে চমকে গিয়েছিলাম। মেয়েটা বল্লো, '‘একজন মানুষ যদি অন্য একজনের জন্য কিছু করতে প্রস্তুত না থাকে, তাহলে তার নিজের কোনদিন অন্যের থেকে কিছু এক্সপেক্টাশান থাকা নৈতিক না''।
জার্মানরা পরিশ্রমী, বেশ সৎ এবং খানিকটা ঘাড় ত্যারা টাইপ (ফোকাসড অর্থে) বলেই জানতাম, ওইদিন মেয়েটার নৈতিকতা বোধ, জার্মানদের সম্পর্কে আমার শ্রদ্ধাবোধকে নতুন মাত্রা দিলো, সৌভাগ্যজনকভাবে কলিগদের মধ্যে অনেক জার্মান পেয়েছি এবং তাদের সম্পর্কে উচ্চ ধারণটা এখনো বদলায়নি।
জার্মানদের ভিড়ে এসে অনেকদিন পরে হঠাৎ মেয়েটার কথা মনে পড়লো, যদিও নামটা আজ মনে নেই। ভালো মানুষগুলো ভালো থাকুক!

নববর্ষ ভাবনা

চারিদিকে ইলিশ নিয়ে মাতম দেখছি। একদল ইলিশের উচ্চমুল্য নিয়ে কৌতুক করছে;
ইলিশ ফ্লেভারড পাঙ্গাস হলেও নাকি চলবে, তবুও নববর্ষে ইলিশ চাই। আরেকদল ইলিশে ফরমালিন হেতু ইলিশহীন নববর্ষ চাচ্ছে। ইলিশ আমার সবচেয়ে প্রিয় মাছ। প্রিয় ইলিশকে নিয়ে জাতির এমন মাতামাতি উপভোগ্য। কিন্তু কেন জানি ইলিশের কথা মনে আসতেই মনটা খারাপ হয়ে গেলো, দক্ষিণাঞ্চলের যেসব জেলেরা আমাদের ইলিশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা জোগান দিয়ে যাচ্ছেন, যাদের অপরিসীম কষ্ট ও বিপদসংকুল কাজের বিনিময়ে আমরা পান্তা ভাতে ইলিশ ভাজা খাই, তাদের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।
একবার এক জেলে পাড়ায় গিয়েছিলাম, কয়েকজন জেলের সাথে কথা হল। এক একজন জীবন যুদ্ধে পোড় খাওয়া মানুষ। আমি যখন তীব্র রোদ থেকে বাচার জন্য মাথায় ক্যাপ পড়েছি, বৃদ্ধ চাচার মাথার উপর ছিল একটা গামছা। গরম বালুর উপর খালি পায়ে দাঁড়ানো যাচ্ছিলো না, অথচ তাদের বেশির ভাগেরি দেখলাম পায়ে স্যান্ডল নেই, জামাকাপড়ে জীর্ণ দশা। গায়ের রঙ জ্বলে গেছে। যে বয়সে হয়তো শহুরে একজন চাকুরের বিশ্রামে যাবার কথা ছিল, সে বয়সে এখনো তাকে ঢেউ ভাঙতে হয়। জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে তাকে জাল ফেলতে হয়, টেনে তুলতে হয় আমার পাতের তাজা ইলিশ।
তাদের কষ্ট গুলো আমরা চোখে দেখিনা, মিডিয়া গুলো ওদের কথা কম বলে। তাদের নিয়ে কারো যেন ভাববার সময়ও নেই। কল্পনা করেই তাই তাদের কষ্টগুলোর ভয়াবহতা অনুভব করছি। একবার একটু কল্পনা করে দেখুন তো, হাত-পা বেধে একটা লোককে সমুদ্রে ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে দস্যুরা, একজন মানুষ হাত পা বাধা অবস্থার নোনা পানির সাথে যুদ্ধ করছে, ক্রমাগত তার নাকে মুখে পানি ঢুকে পড়ছে, ধীরে ধীরে ফুসফুস থেকে শেষ দমটুকু বেড়িয়ে যাচ্ছে, লোকটা মারা যাচ্ছেন। উপকূলীয় এলাকায় যখন টর্নেডো হচ্ছে, ঝড় হচ্ছে, নিম্নচাপ হচ্ছে, আমাদের আবহাওয়া অফিস মানুষগুলোকে মাঝে মাঝেই ভুলভাল সংকেত দিচ্ছে। সংকেত প্রচার ও আপদকালীন সময়ে জেলেদের উদ্ধার নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই। নদীতে বলেন, সমুদ্রে বলেন কোথাও নিরাপত্তা দেয়ার জন্য কারো কোন দায়বদ্ধতা দেখি না। এরা যেন সঙ্কুলতার মাঝে যুদ্ধ করে আমাদের জন্য মাছ ধরে আনবে, আমাদের পাতে তুলে দেবে, বিনিময়ে তারা বেচে থাকার নুন্যতম ডাল-ভাতের যোগান পাবে। এই কি মানুষ হয়ে বেচে থাকা?
তৈরি পোশাক উন্নত দেশেগুলোতে বাংলাদেশের একটি পরিচয়। যখন শুনে আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি, অনেককে পেয়েছি যারা গার্মেন্টস নিয়ে কথা বলেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া শ্রমিকদের নিয়ে কথা বলে; সচেতনতাটা লক্ষ্য করি। ইউরোপের ভোক্তা হিসেবে ওরা সুদূর বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ নিয়ে যতটা সচেতন, আমরা ছোট্ট একটি ভৌগলিক সীমানার মধ্যে বাস করেও, যে লোকটি আমার পাতে দৈনিক মাছ তুলে দিচ্ছে তার কথা ভুলে যাই। ২০০ কি মি দূরের যে মানুষটি তার সাথে আমার কত সীমানার ব্যবধান?!
ইলিশময় বা ইলিশহীন যেভাবেই কাটুক, আপনাকে শুভ নববর্ষ!

নদী জীবন


জীবন নদীর মতন, বয়ে চলে
ঘরগুলো চরের মতন, পলি জমে
জেগে উঠে জীবনের মাঝে
স্তরে স্তরে সেজে উঠে সময়ের স্রোতে
পথিক গৃহী সাজে, আবাদ করি জীবনের স্বপ্ন
হাসি খেলা মাঝে জীবনের উষ্ণতা ছড়ায় চারিপাশে
কাশের বনে শরৎ লাগে, রেণু ছড়িয়ে বাতাসে
জীবনের নদী পাশে


কূল ছাপানো প্লাবনে বা ঝরে
কোন এক বিধ্বংসী ভাঙনের প'রে
রয়ে যায় স্মৃতি কারো
এই খানে ছিলো কারো মায়া
হৃদয়ে উষ্ণতা ছিলো ছিলো স্বপ্ন ছায়া
রং ছিলো, সুর ছিলো, ঘরে ঘরে দীপ ছিলো
নৈশব্দের মাঝে শুধু বাজে যেন বাতাসের হাহাকার
রাত্তিরে কেবলি পাখিরা বাসা বানায়


অদ্ভুত জীবনের নদী, থামা নেই
আছে শুধু ভাঙ্গা গড়া, সমতা নেই
একে দেয় তো তাকে খায়,
কোথায় শুরু কোথায় শেষ?
কারে ধরে তো কারে ছাড়ে
কে নিরনাইবে
আজ যারে তুমি আপন করেছ
কালকে করেছ পর


নতুন স্রোতের চলনে জীবন এগোয়
হয়তো গড়ে তোলে আবার বসতি কোন
আবার কোন জাম-জারুলের ছায়ায়
নয়তো জীবন হারিয়ে ফেলে নদীটাকে
টাইলসে মোড়া পুলের চকচকে জলে
খুজে নেয় সুখ কারো কোমল পা
হিমায়িত বাতাসে জীবন হয় স্বস্তিময়


জলের পথিক আরো ভেসে চলে
যমুনা-মেঘনা হয়ে সমুদ্রে মেশে
নোনা জলে যেন তার কপালের লেখন 

Call for strength


It's raining here a lot.
Might be too sunny somewhere else.
It's summer in Uppsala
I know winter in AddisAbaba
It's might be wildfire in LA
While sprouting flowers in the bay

If it's only burning my heart,
While, smile on her face;
If it's the nature who choose
one cry, other do fly
Oh lord, just give me the strength
to carry it, until I'm ablazed. 

Secret Lover


You smile, I love it
You do cry, I love it
You are funny, I love it
You are adorable, I love it
Simply I dont tell it,
Should be someone,
a secret lover!

You are crazy, I love it.
You are sad, I love it.
You are strong, I love it.
You are weak, I love it.
Simply I dont tell it,
Should be someone,
a secret lover!

Love pays back


Had been growing with enemies
With time the number increased
No enemy could stop me smiling
No arrow did pierce my body

I was a protesters
Protesing always against bad and shits
No power could bow me down
No bullet could hit me so far

Being a free traveler with strange paths
Traveling day and night, in unkwon territories
No robber had stopped me ever
No knife has cut me deeper

Had many events with adrenalin rush
from very close to death few times
Still I'm alive
those didn't take me down

I was a lover, loved you pretty much
Gave you the heart, needed rest and peace
You took quite good care of it indeed!
No empathy can stop it bleeding and cry

ভুলে থাকা জীবন

বড় এক ভুল সময়ে হেঁটেছি পথে,
বারে বারে ঘুরে চলেছি ভুল সীমানায়।
বড় এক ভুল দুয়ারে নেড়েছি কড়া,
ফিরে ফিরে চেয়ে থেকেছি ভুল আলেয়ায়।
বড় এক ভুল করে চিনেছি যারে,
ক্ষণে ক্ষণে তার শুদ্ধি খুজেছি ভুল সংজ্ঞায়।

বাংলা নববর্ষ ১৪২০, জাগ্রত হোক আবহমান বাংলার শুভ বোধ!

রোম যখন পুড়ছিল নিরো তখন বাশি বাজাচ্ছিলো। নিরো হয়ত বেশ আত্নভোলা সুখেই ছিলো, নিজের শহর যখন পুড়ে যাচ্ছে, সে তখন বাশি বাজাতে পারলো, মাঝেমাঝে আমারও খুব আত্নভোলা হয়ে উঠতে ইচ্ছে করে, স্বার্থপরের মত আমিও বাশি বাজাতে চাই। ভাবি একটু- আধটু কবিতা লিখবো, ট্যুর থেকে তোলা কিছু ছবি আপ করবো, হয় না, হচ্ছেনা। দেশে যেই ভয়াবহ অবস্থা! পত্রিকা, টেলিভিশন আর আটপৌরে সঙ্গী ফেসবুক যেখানেই তাকাই না কেনো, ক্লান্ত ক্লান্ত ক্লান্ত, সর্বাংশে ক্লান্ত হয়ে উঠছি। ৫০০০ মাইলদূরে বসে যখন খুব ক্লান্ত ও বিরক্তি লাগে, তখন আবার দেশের ভেতরে থাকা মানুষগুলোর কথা চিন্তা শুরু করি; নিজের খারাপ লাগা নাই হয়ে যায়। ভাবি দেশের বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের জীবন আজ চরম উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতায় যাচ্ছে, সেখানে আমিতো শতগুনে নিরাপদে আছি।

নববর্ষের একদিন বাকি। আর একটা দিন ওরাত্রি পার হলেই নতুন বছর; হাজার বছরের বাঙালি চেতনা, সংস্কৃতির ও মানুষের গণউৎসব।আমরা উৎসব প্রিয় জাতি, ভিন্ন মত ধর্মের উরধে উঠে আমরা আমাদের সমাজ গড়ে তুলেছি।আমরা হিন্দুর পার্বণেও গিয়েছি, মুসলমানের ঈদেও উৎসব করেছি, পাহাড়িদের বৈসাবি চলছে। আমরা রমজানে হিন্দুদের পূজো দেখেছি, মুসলমানদের নামাজে-আজানে হিন্দুদের পূজোর অনুষ্ঠানে নিরবতা দেখেছি। নববর্ষ উৎসব যেন আমাদের সকলের মহামিলনমেলা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সোনালী দিনগুলো মনেপরলেই ফিরে আসে সবাই মিলে রমনায় ঘুরে বেরানো, হাজারো মানুষের ভীড় ঠেলে বন্ধুদেরখুজে চলার কথা।  পুরাতন বছরের ব্যর্থতা গ্ল্যানি অগ্নিস্নানে পুড়ে প্রতিবছর এই দিনে আমরা নতুনের প্রত্যয় ধারণ করেছি। এবার কি আমরা পারবো?   


কয়টা দিন আগেও আমাদের দেশটা ভালোইতো শান্তিতে ছিল। শত সীমাবদ্ধতা, সম্পদের অপ্রতিকূলতা, ব্যর্থ নেতৃত্ব সত্ত্বেও আমরাতো ধীরে হলেও এগিয়ে যাচ্ছিলাম। পৃথিবীর বহু মানুষের কাছে বাংলাদেশের উন্নয়ন বিশ্বয় তৈরি করেছিলো। আমরা এমনি জাতি, আমরা পরিশ্রমী, খেটে খাওয়া। ধনী বিশ্বের কিছু মানুষ যখন এত এত প্রাচুর্যের মধ্যে থেকেও কোথায় যেন কি শুন্যতায় ভোগে, আমার দেশের মানুষগুলোর তখন তার চেয়ে ৩০ ভাগের এক ভাগ উপার্জন করে কিভাবে যেন জীবনের পরিপূর্ণতা খুজে পায়। এতো দরিদ্র একটি দেশ হয়েও যখন আমরা সুখী দেশের তালিকার নিজেদের খুজে পাই, যখন দেশ সামাজিক উন্নয়নের সূচকে আমাদের থেকে তুলনামূলক বেশি ধনীদের পিছনে ফেলে দেয়, খুব আশান্বিত হই, কোথায় যেন এক তীব্র ভালোলাগা জেগে উঠে। নিজের সহোদরদের ভালবাসার কথা আমাদের যেমন কাউকে শিখিয়ে দিতে হয়না, আপনা আপনি সহজাত বোধ থেকে জেগে উঠে, তেমনি এদেশের মানুষ একে অপরকে চেতনে-অবচেতনে জড়িয়ে নিয়েছে কালে কালে।


পৃথিবীর বিভিন্ন দেশসহ ভারতবর্ষের অন্যান্য জায়গার দিকে তাকালেই যত প্রাসাদ, কেল্লা, দুর্গ আপনি দেখতে পাবেন, আমাদের বাংলায় এগুলো সংখ্যায় অনেক কম। আমি অনেক ভেবেছি, কেন? কেন আমাদের যুদ্ধের দুর্গ এতো কম? কেন ব্যবসায়ীবেশী ব্রিটিশরা এতোদূর থেকে এসে অল্পস্বল্প শক্তিতেই আমাদের কে পরাধীন করে দিলো, অতি সহজেই কেনো আমরা ২০০ বছরের গোলাম হয়ে রইলাম? কেনো আমরা অন্য জাতিকে কোনদিন দখল করতে গেলাম না? কেন আমরা নিজেদের নিয়েই যথেষ্ট ছিলাম? এতো চিন্তার মূলে আমি বাঙলায় প্রান্তিক শ্রেণীর সংখ্যাধিক্যকেই খুজে পাই। আদি থেকেই আমরা ছিলাম প্রান্তিক, প্রান্তিকের অল্পতেই তুষ্টি। দুবেলা খাবার, একটা ভালো ফসল, তাই যেন ছিল কৃষিভিত্তিক সমাজের যথেষ্ট পাওয়া। আমরা অল্পতেই তুষ্ট হয়ে উঠার মহোঔষধ খুজে নিজেছিলাম। আমাদের রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রণোদনা যখন মানুষকে জীবনের পথে পথে আটকে দেয়, আমরা রক্তদান করি, শীতার্তদের জন্য বস্ত্র জোগাই, আমরা অক্ষমের চিকিৎসায় সম্মিলিত হাত বাড়াই,আমাদের চিকিৎসকরা অল্প উপার্জনে মানুষের সেবা করে যায়, আমাদের লেখকেরা নামকাওয়াস্তে পারিশ্রমিকে কলম ধরে। এতোক্ষণে আমি যাদের কথা বললাম, এশুধু শোষিত বাঙালির গল্প; এ গল্পে কিন্তু সবাই ছিল; হিন্দু ছিল, মুসলমান ছিল, বৌদ্ধ ছিল, খ্রিষ্টানছিল, বাংলাদেশ পরবর্তীতে পাহাড়িরা ছিল, মোটের উপর সবাই, কিন্তু একজন ছিল না, শুধুএকজন। তার গল্প ভিন্ন, এবার একটু তার গল্পও বলি।


সে হল শোষক। আপনারা যারা জোক গল্পটিপড়েছিলেন এটি সেই জোক। সে আমাদের সমাজেরি অংশ, ধূর্ত ও কার্যকরী। সুযোগ বুঝে যারা রক্ত শুষে নেবে, অন্যাস্থাটাইজড শোষিত সমাজ সহজেই তার টেরও পাবে না। আরেকটু ডিটেইলস বলি, প্রাচীন বাংলায় তারা জোতদার ছিল, মহাজনী ছিল, পরে এরাই জমিদার হয়েছে, খেটে খাওয়া প্রান্তিকের রক্ত এরাই শুষেছে। রাজনৈতিক ভাবে এদের আসলে একক কোন দলনাই। ধরেন যখন আওয়ামী ক্ষমতায় এরা আওয়ামী লীগ, যখন বিএনপি ক্ষমতায় তখন তারা বিএনপি, যদি কোনদিন জামাত ক্ষমতায় আসে দরকারে তারা জামাতও করবে।  ৭১’এ কলকাতা বসে এরাই হালুয়া-লুচি খাইসে, যখন বঙ্গবন্ধুকে ৭৫ এ সপরিবারে হত্যা করা হয় তখন এরা সবাই পালাইসে মুখ দিয়া একটাওটু-শব্দ করে নাই, এরাই বিএনপি আমলে ফুলে ফেপে কলাগাছ হইছে, আজ যখন আওয়ামী হলুদ মিডিয়ার বিপরীতে ফাইট দেয়ার জন্য বিএনপি’র মিডিয়া সাপোর্ট দরকার হইয়া পড়ছে, মাহমুদুর রহমান বাদে সবগুলা ভাগছে। ৪৭এ যখন এদেশের হিন্দু ভারত গেছে, ভারতের মুসলমান এদেশে আসছে, দুই দেশেরই একই শোষক শ্রেণী সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল করছে। অনেক সংখ্যালঘুকে অত্যাচার, হত্যা করছে। ৭১ এ এরাই আবার রক্ত পিপাসায় কাতর ছিল, হত্যা, ধর্ষণ, লুট কোনটাই ছাড়ে নাই। যুদ্ধপরবর্তী কালেও এরা ভালো তবিয়তেই ছিল, আরো আরো সংখ্যালঘুর বাড়িঘর, জমি- জেরাত এরাই খাইছে, খাওয়া এখনো থামে নাই, এখনো হিন্দু ভাইদের ভয়ভীতি দেয় এরা ‘জমি কিন্তু আমার কাছেই বেচতে হইবো’। তুলনামূলককম-শিক্ষিতগুলি গ্রামে গঞ্জে ছড়ায়া আছে, স্থানীয় পর্যায়েই শোষণ করে। কিন্তু যেইগুলা আরেকটু বেশি শিক্ষিত, দুই পাতার পুস্তক আর নকলের শিক্ষার সিঁড়ি বাইয়া এরা হুরহুর কৈরা উঁচা দালানে উইঠা পড়ছে।  এখন এদের কেউ কেউ গার্মেন্টস চালায়, পত্রিকা চালায়, নানান নামে ব্যাংক খোলে, অমুক টিভি, তমুক টিভি দিয়া বাংলা ভাসায়া ফেলছে, এরাই রেলওয়ের জায়গা দলিয়ো মানুষেরে দেয়, শেয়ার বাজার থিকা লাখো মানুষের টাকা নিজের পকেটে চালান করে।এরাই স্মাগ্লিং করে, এরাই ট্যাক্স ফাকি দেয়, কুইক রেন্টাল করে, খাম্বা বসায়, মজুতদার হয়, দেশপ্রেমিক সাইজা কয়লাকোম্পানির দালালি করে। এরাই দেশের গ্যাসে বিদেশীগো সোনার ডিমে তা দেয়। এরাই হলমার্ক করে, এরাই দেশের টাকায় বিদেশে ফুর্তি করে, নামে- বেনামে বিদেশে বাড়ি কেনে, এরাই ফি বছর ঢাকার শহরে লাফায়া লাফায়া বাসাভাড়া বাড়ায়, বাস ভাড়া বাড়ায়, ক্লিনিকে ক্লিনেকে চিকিৎসার নামে মানুষ জবাই করে। আমাদের নাকের সামনে মূলো ঝুলিয়ে এরাই পথে পথে আমাদের সংঘাতে নামায়, তলে তলে নিজেরা বেয়াই হয়।

 এই তো গেল পুরান প্রজন্ম, তাদের সবচেয়ে নতুন সংস্করণ গেলমান গুলা বেশ স্মার্ট। তেনারা পড়ালেখা দেশে করলেও বড় হইতে শুরু করছে নিজেগরে ওয়েস্টার্ন ভাইবা। ২ পাতা বাংলা লেখতে এগো হাওয়া বাইরায়া যায়, অথচ ইংলিশ ছিনেমা ডায়ালগসহ তাগো মুখস্ত থাকে। রেডিও জকি হইয়া ভাষারে ফ্যাশনের বস্তু বানায়া ফেলে, জারা- বোম্বাই ফ্যাশান হাউজে দামী পণ্যের ভোক্তা হয়, নিত্য নতুন গজানো সব বিলাসবহুল রেস্তোরায় শিশা টানে, ভাঙাচুরা রাস্তায় ধেই করে গাড়ি চালায়া রাস্তার মানুষেরে কাদা ছিটায়, এরাই গ্রামের পোলাপানরে ক্ষ্যাত আর মাদ্রাসার পোলাপাইনরে বুদ্ধিহীনমনে করে, এরাই থার্টি ফাস্টএ এখন দেশে হাজার টাকার পটকা ফুটায়, পশ্চিমা ধ্যান ধারণার উচ্ছিষ্টটুকু এরাই মোয়া মনে করে, বাঙাল দর্শনের অনেক কিছুরেই তারা মধ্যযুগিয়ো সাব্যস্ত করে।

  
আজ আমাদের অপরাধকে অপরাধ হিসেবে ভাবতে হবে, ব্যাক্তিকে তার অপরাপর পরিচয়ের (ধর্ম- বর্ণ- রাজনৈতিক) উরধে ঠেলে তার কৃতকর্মের দণ্ডে মাপতে হবে। শোষকের সাথে যদি আমরা যুদ্ধে নামি, শোষিতের অধিকার চাইতো, আমাদের আজ প্রথাগত এ শক্তির বিরুদ্ধে হাতে হাত রেখে দাড়াতে হবে, এ যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদের, এ যুদ্ধ রেনেসার, এ যুদ্ধ সমাজের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের। এ পরিবর্তন হবে আদর্শিক। বিভেদের সীমানা প্রাচীর তুলে আজ ওরা শুধু আমাদের দমিয়ে রাখতে চায়। তাদের ভাগ বাটোয়ারার যুদ্ধে আমাদের নীরবতাকে, আমাদের অদূরদর্শিতা, অ্যানেস্থাটাইজড বোধকে তারা নিজেদের গদি বাচাতে ব্যবহার করতে চায়। একদলকে ফ্যাসিবাদী চেতনায় হিপ্নোটাইজ করে ওরা আরেক দলকে কাবু করতে চায়। অতি দুঃখ ভারাক্রান্ত মন আজ। ধরে ধরে জবাই করার মন্ত্রে একদলকে ওরা উস্কে দিলো, পুলিশের গুলিতে ওরা মানুষ মেরে যে ঘাত দিল, স্বাভাবিক প্রতিফলনে আজ প্রতিঘাত হয়ে ফেরত দিচ্ছে আরেকদল। আজ আমরা ভালোবাসার শক্তিতে আস্থা হারিয়ে ফেলছি, ওদের হিংসার বিপ্লব ফাদে পা দিয়েছি। আজ যে যুদ্ধ হবার কথা ছিল আমাদের শ্রেণী বৈষম্যের বিরুদ্ধে, যে যুদ্ধ হবার কথা ছিল প্রকৃত গণতন্ত্রের, দারিদ্র মুক্তি ও স্বাধীনতার, তারা আমাদের সেখান থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যারা কথায় কথায় বাংলা হয়ে যাবে আফগান, বাংলা হবে ভারত বলে মুখে ফেনা তোলে আমি আর তাতে সীমাবদ্ধ নই, জুজুর ভয় দেখিয়ে আর কত? আমি বুঝে গেছি বাংলা বাংলাই রবে। যে বাংলা আস্তিকের, সে বাংলা নাস্তিকেরও। অপরের বিশ্বাসের প্রতি সম্মান আমাদেরি নিশ্চিত করতে হবে। যে বাংলা শোষকের, সে বাংলা শোষিতেরো। তারা এতদিন মঞ্চে উঠেছে, মুখের কাছে মাইক পেয়েছে, যে কোনদিন মঞ্চে উঠেনি, যে কোনদিন তার কথাগুলো বলতে পারেনি এবাংলা তারও। এ বাংলায় তারো অধিকার ওদের চাইতে কম নয়, আজ সবাইকে তার কথাও শুনতে হবে। আজ আমাদের শোষিত শ্রেণীকে নিজেদের কথা বলতে হবে, রাষ্ট্রে নিজেদের অংশ শোষকের হাত হতে ধীরে ধীরে ফিরে পেতে হবে। রাজনীতির মঞ্চ নষ্টদের হাতে নয়, সুস্থ বিবেকসম্পন্ন শিক্ষিত তরুণদেরই বুঝে নিতে হবে।   
    
বিপ্লব হোক সার্বজনীন, বিপ্লব হোক আদর্শিক, বিপ্লব হোক বুনিয়াদী, হোক দীর্ঘমেয়াদি, বিপ্লব হোক বাংলার আবহমান সমাজের! শুভ বুদ্ধির জয় হোক, ভালবাসার জয় হোক,  আগামির জীবন শুভ হোক! 

সহজের অসুখ

সহজ নয়নে, সহজ দেখা 
সহজ প্রাণে, সহজ লেখা 
সহজ জোয়ারে, সহজ চাওয়া 
সহজ সূরে, সহজের গান গাওয়া 

সহজ হাসিতে, সহজ ভালোবাসি
সহজ কথায়, সহজের হাতছানি
সহজ বিশ্বাসে, সহজের শ্বাস
সহজ হৃদয়ে, সহজের আশ

সহজ তুমিতে, সহজ আমি
সহজ মনেতে, সহজ অনুভূতি
সহজ রঙে, সহজ ছবি
সহজ কবিতায়, সহজ কবি

সহজ মাটিতে, সহজ ফসল
সহজ মেঘেতে, সহজ জল
সহজ ঘাসেতে, সহজ চাদর
সহজ মমতায়, সহজ আদর

সহজ পথে, সহজ জীবন
সহজ ভাবনায়, সহজ ভ্রমণ
সহজ ধারায়, সহজ প্লাবন
সহজ পলিতে, সহজ ভাঙন

সহজ রাতে, সহজ কালো
সহজ ভোরে, সহজ আলো
সহজ দুপুরে, সহজ খর-রৌদ্র
সহজ বিকেলে, সহজ সূর্যাস্ত

সহজ প্রণয়ে, সহজ সমর্পণ
সহজ বিরহে, সহজ স্মরণ
সহজ দায়ে, সহজ মুক্তি
সহজ ছাড়নে, সহজ শক্তি

সহজ আগুনে, সহজ দহন
সহজ জালায়, সহজ মরণ
সহজ ক্ষুধায়, সহজ হলো সুখ
সহজ দেহে আমার, সহজের অসুখ 

বাংলাদেশের বিজয়

বলো ভাই, বিজয় কি?
বিজয় হলো একটি যুদ্ধ, 
স্বাধিকার সংগ্রামের আপাত প্রাপ্তি 
বিজয় হলো শত সহস্র ত্যাগ 
সহযোদ্ধার দেহছাড়া তাজা খুন
বিজয় মানে ভুলে না যাওয়া, হারানোকে খোজা
নিজের দুপায়ে দাড়ানো, সোজা; নিজেকে চেনা  
বিজয় মানে মায়ের কোলে ফিরে যাওয়া 
ফিরে পাওয়া নিজের উঠোন
বিজয় মানে নিজের পাওয়া একটা দেশ  
সোনার বাংলাদেশ  

বলো ভাই, দেশ কি?
দেশ হলো সোনাঝরা রোদ 
সানকী ভরা কৃষাণের মাখা ভাত
দেশ হলো মা, পলি জমা, এটেল দোআঁশ
মায়ের দেহ জুড়ে নিরন্তন বয়ে চলা নদী 
বক্ষ- পাজরে ছড়ানো ছিটানো সব ধমনী ও শিরা 
দেশ মানে ডিঙ্গি নৌকা, নায়ের গান গাওয়া মাঝি 
দেশ মানে শরতের আকাশ, কুঞ্জ কুঞ্জ মেঘ
বিস্তীর্ন বিলে , ধানের ক্ষেতে বর্ষার জলধারা
দেশ মানে ফসলের অবারিত মাঠ,
ছুটে চলার এক স্বাধীন সীমানা  

বলো ভাই, স্বাধীনতা কি? 
স্বাধীনতা হলো সার্বভৌমের মূর্ত রুপ 
স্বাধীনতা মানে হাত না কাঁপা 
বজ্র আওয়াজ, কঠিন চিবুক 
স্বাধীনতা মানে হুজুর হুজুর না বলা
স্যার, সাহেব, ওয়ালাদের চোখে চোখ তুলে কথা বলা
স্বাধীনতা মানে বাইরে বেরনো, চায়ের দোকানে আড্ডা
ঘরে ফেরা, খোকা-খুকির জন্য ঘুম পাড়ানি গান 
স্বাধীনতা মানে গর্বিত জাত-পরিচয়, জাতীয়তা
স্বাধীনতা মানে সমানে সমান কথা বলা তোমার-আমার
জাতিতে জাতিতে পারস্পারিক সম্মান  

বলো ভাই, জাতি কি? 
জাতি হলেম তুমি আমি, এ ঘর-সে ঘর 
জাতি হলেম বন্ধুরা সব, স্কুলের আসিফ 
মহিন,তুহিন, অমিত ওরা সব 
জাতি মানে ছোট্ট দোয়েল, ডোরাকাটা বাঘ
ঝিলে ফোটা মুক্ত শাপলায় ঘোলা জলের ঢেউ 
জাতি মানে প্রভাত ফেরি, সচকিত স্লোগান 
সমস্বরে উচ্চারিত প্রকম্পিত দাবি
জাতি মানে একতা, তোমার আমার ভালোবাসা 
আমার রক্তে গড়া তোমার তরে, পতাকার এক লাল বৃত্ত 
জাতি হলো কোটি দেহে এক চিত্ত 

ক্যাফে ম্যাঙ্গো ও নীল অপরাজিতা

ধানমণ্ডি ৫ এর মাথায় ক্যাফে ম্যাঙ্গো, বেশ গোছানো একটা ক্যাফে-রেস্তোরাঁ। পুরনো একটা বাড়িকে সাজগোঁজ করে নতুনরুপ দেয়া। রাস্তা থেকে ভেতরে ঢুকতে ছোট্ট যেই গলি তার দুধারে সবুজ, টবে লাগানো হরেকরকম গাছ-গাছালি আর দরজার গা ঘেঁষে দেয়ালে ঝুলে আছে লতাপাতা; ম্যানিপ্লান্ট হবে অথবা অন্যকিছু, মনে নেই। অবশ্য ভালোলাগাটুকুকে মনে গেথে দিলো ক’টি নীল অপরাজিতা; মৃদুমন্দ শ্রাবণের বাতাসে মাথা টোকাটুকি করে দুলছে, অনেকটা লজ্জাবনত ষোড়শী কিশোরীর মত, সপ্রভিত একটা টান টান সতেজতা অথচ লাজুক,  ডানে বায়ে দুলছে। আমি বসে আছি ঢোকার পরের প্রথম ঘরটায়, চারিদিকে অর্ধস্বচ্ছ কাচে ঘেরা, কিছুটা জায়গায় চিকন বাশের ব্লাইন্ডস দেয়া। যখন ঢুকে বসেছি তখনো বাইরে সূর্য ছিল, মেঘও ছিল। ব্লাইন্ডসের চিকন বাশগুলোর ফাক গলে ঢুকে পড়ছে কিছু আলো, ঘরটার একদিক হালকা আলোময়, আমি বসে আছি ঢাউস সাইজের একটা কাচের টেবিলের পাশে পাতানো গদিতে। জায়গাটা সুন্দর, শৈল্পিক ঢংয়ে সাজানো গোছানো কিন্তু তাতে কি, আমার মন প্রাণতো কেড়ে নিলো ওই ছোট্ট অপরাজিতা, গাঢ় নীলের মধ্যে নিষ্কলংক ওর সাদা বৃত্তে আমি বন্দী,  বিমুগ্ধ হয়ে চেয়ে আছি। বাতাস বাড়ছে, মেঘের আড়ালে সূর্যও ঢাকা পড়লো, হালকা অন্ধকার অন্ধকার আবহটা ভালোই লাগছে। বাংলার বর্ষা বড়ই মোহণীয়, ধীরে ধীরে জমে উঠা আমাদের দুঃখ-জরা, ক্ষত-শোক, ক্রমাগত নষ্টামিতে ভরে উঠা ধুলোবালি, ওকি আপন মায়ায় ধুয়ে দেয় ঝিরিঝিরি জলের প্লাবনে। বেশ শব্দ করে বৃষ্টি হচ্ছে, কি অবিরাম সুরের ধারার মধ্যে ডুবে যাচ্ছে নিত্যকার কষ্ট দেয়া চিৎকার চেঁচামেচি, হইচই। প্রথম যখন বৃষ্টি শুরু হল, শব্দ ছিল একরকম, একটা তেজদীপ্ত শাঁসালো স্বর; এখন একটু পাল্টে গ্যাছে, তুলনামূলক কোমল ধারায় ঝরছে, শব্দসুরে ভালোকরে মন পেতে আরো কিছু সুর ধরছি, বেজে চলছে আমার বৃষ্টি তানপুরায় টুপটুপ, টুং টাং। আর আমার ছোট অপরাজিতা? ওতো যেন বাধভাঙ্গা আনন্দে নেচেই চলছে, কোন এক প্রেমিকের ইশারায় বৃষ্টির সাথে জলকেলি খেলছে; হয়তবা আমাকেই ডাকছে, চির ব্যর্থ আমি বসেই আছি। তার সৌন্দর্যের মাদকতা, হেলেদুলে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ আমাকে তার কাছে আরো অযোগ্য করে তুলছে। আমি নড়তে পারছি না; দু কদম এগিয়ে, হাত বাড়িয়ে তাকে একটু ছোব, পারছি না! জীবনটা যেন আটকে আছে, ক্যাফে ম্যাংগোর এই বারান্দায়। জানালার গ্রিল গলে যতটুকু জল ছিটকে পড়ছে গায়, ওই সামান্যটুকুই যেন আমার প্রাপ্তি। শব্দ সুরে, আবছা আলোয় আমি ঘুমিয়ে যাচ্ছি হয়তো, ক্রমাগত ছিটকে আসা জলের কণাগুলো যেন আমাকে ঘুমুতে দেবে না, আমায় বারবার জাগিয়ে দিচ্ছে; আমি ঘুমুতেও চাই না, ছুয়ে ধরতে চাই ওকে, চেয়ে থাকতে চাই তার গাঢ় সাদা-নীলে। জেগে উঠেছি?! শুয়ে আছি ধবধবে সাদা সুতির চাদরে, উত্তরীয় আকাশে কত্ত বড় চাঁদ, বিশাল জানালার কাচ গলে ঢুকে পড়ছে ভর পূর্ণিমার সর্বনাশী আলো। আমি ক্রমাগত ভিজে যাচ্ছি, অবিরত জোছনা ও জলে, ভেসে যাচ্ছি স্বপ্ন-প্লাবনে!       

অপরাজিতা, দেখছি তোমায়

জানো, আমি এখন ঠিক তোমাকেই দেখছি?
জানি যত দেখবো, কষ্টগুলো আরও কষ্টতর হবে,
পিঞ্জরে আটকে থাকা বায়ু ফুসফুসটাকে শুধু বিষিয়েই তুলবে,
দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে।  

হয়তো আরও কিছু সিগারেট পুড়বে,
কিছু কালো ধোয়া হবে
তাতে যদি পৃথিবী আরও কিছুটা উষ্ণ হয়ে উঠে,
যদি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আরও কিছুটা বেড়ে যায়?

যেতেই পারে, কিন্তু নীলাকাশের অসীমতায় এইযে চেয়ে থাকা,
তার কি কোন কিনারা হবে?
এই যে আমার কষ্ট গুলো, ছোট বড় দীর্ঘশ্বাস
তার কি কিছু নিস্পত্তি হবে? 

নির্জনতায় পরিভ্রমণ

মাত্র কদিন হলো দেশ থেকে ফিরলাম, হাতে ম্যালা কাজ।দৌড়াদৌড়ির জীবনে রান্নাবান্না না হয় ফাকিই দিলাম, কিন্তু জামাকাপড় ধোয়াতো বাদ চলে না। সপ্তাহান্তে যখন এই ভেজাইল্যা কাজখানা করবো বলে মনস্থির করলাম, এমন সময় সেকেন্ড সুপারভাইসর  দরজায় হাজির। কয়, আমরা দিনকতক আগেই প্ল্যান করছিলাম, তুমি যেহেতু মাত্র আসলা তোমারে এখন কই শোন, চল আমরা এই ইউকএন্ড আমার সামার কটেজে কাটায়া আসি। পাগলারে সাকো নাড়াইতে আহবান করা হইসে, কিসের কি জামা কাপড়, গোল্লায় যাক, বান্দা রাজি! উনি আগেই তার সামার হাউজের গল্প করছিলেন, লেকের ধারে পাহাড়ি এলাকায় বাড়ি, আশে পাশের এলাকা পুরোটাই জঙ্গলে ভরা, প্রায় ১৬০ বছর আগে বানানো ২টা কাঠের ফ্রেমের ঘর, সাথে খোলামেলা বিশাল এক জায়গা। যেখানে শব্দ মানে মৌমাছির ভো ভো গুঞ্জনযেখানে শব্দ মানে মৌমাছির ভো ভো গুঞ্জন

গ্রুপের সঙ্গী-সাথি ৫ জন, প্রফেসর, তার স্ত্রী এবং আমরা তার ৩ শিষ্য। প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে বাক্স- পেটরা সমেত গাড়িতে রওয়ানা দিলাম, দুই তৃতীয়াংশ এসে কয় 'স্যেই গুডবাই টু ইয়্যুর ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলি। ফর ইমারজেন্সি পারপাস গিভ দিস ল্যান্ডফোন নাম্বার টু দেম'  মানে হইলো, আমরা খুব দ্রুত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে যাচ্ছি। পুরাই ক্যারফা অবস্থা, মনে হইলো না কাউরে হঠাৎ ইমারজেন্সি একটা কন্টাক্ট নাম্বার ধরায়া দিয়া দুশ্চিন্তায় ফেলি (দুশ্চিন্তায় ফেলা যায় এমন কাউকে খুজেও পেলাম না) ...  মনে মনে গুডবাই বলে অরণ্যআঞ্চলে প্রবেশ করলাম। বনের মধ্যে দিয়ে আকাবাকা পাহাড়ি পথ,  পড়ন্ত বিকালের সূর্য সারি সারি গাছের ফাকে আমাদের সাথে পাল্লা দিয়ে চলল। পথের দু'ধারে অনেক লেক পড়লো, আমাদের গন্তব্য এমনি ছোট্ট একটা লেক Bisen এর তীরের একটা ঘর 
আঁকাবাঁকা পাহাড়ি বনপথআঁকাবাঁকা পাহাড়ি বনপথ  

ঘণ্টা তিনেকের ড্রাইভ শেষে যখন পৌঁছলাম বেলা তখনো কিছু বাকি। ঝটপট গ্রীলে কিছু  মেরিনেটেড চিকেন চড়িয়ে দিয়ে শুরু হলো কৌতূহল পূরণের প্রথম পর্ব। খুব যত্ন নিয়ে আমাদের বুঝালেন ১৬০ বছর আগে কিভাবে এই বাড়িটা তৈরি করা হইছিলো, কাঠ ব্যবহার করে তাপ কুপরিবাহক দেয়াল কিভাবে হলো, ওরা কিভাবে এতদিন ধরে বাড়িটার অরিজিনাল্যিটি ধরে রেখেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। কয়েকটা বাতি, ১ টা পানির পাম্প ও একটা ১২ ভোল্টের রেফ্রিজারেটর চলে সোলার প্যানেলার বিদ্যুতে। বন থেকে সংগ্রহ করা কাঠে জ্বালালাম ঘরের হিটার। লেক থেকে পাম্পে তোলা পানিতে চলবে ঘরকন্নার কার্যাদি। সবাইকে থাকার জায়গা বুঝিয়ে দিয়ে নিয়ে গেলো তাদের গ্রীন টয়লেটে; কিভাবে গ্রীন হলো তার সবটাই বুঝিয়ে দিলো, যাইহোক আমি সে প্যাচালে আর না যাই।

আকাশটা এরকমই নীল, ঘাসগুলো আরো সবুজ। দূরে আকাশের বুক চিরে দেখা যাচ্ছে সভ্যতার নগ্ন ছোঁয়া, অ্যারোপ্লেনের সাদা ধোঁয়া।আকাশটা এরকমই নীল, ঘাসগুলো আরো সবুজ। দূরে আকাশের বুক চিরে দেখা যাচ্ছে সভ্যতার নগ্ন ছোঁয়া, অ্যারোপ্লেনের সাদা ধোঁয়া।

সূর্যাস্তের আলোয় বসে হলো ডিনার। ইয়াম্মি ইয়াম্মি চিকেন :)ইয়াম্মি ইয়াম্মি চিকেন :)
সন্ধ্যায় ঝিঁঝিঁ পোকা মিস করলাম খুব, কিন্তু ওর বদলে পেলাম অন্য কিছু পোকার শব্দ। মুগ্ধ শ্রোতা হয়ে শুনছিলাম নানান পাখির ডাক, যদিও শেষ পর্যন্ত বাচ্চা মশারা বেশিক্ষন বাইরে বসতে দিলো না। কৃষ্ণপক্ষের দ্বিতীয় রজনী, আকাশ জুড়ে প্রায় পূর্ণিমার বান ডাকলো, শক্তিমান কিছু তারা জেগে রইলো তার পাশাপাশি। রাত্রির গভীরতার সাথে সাথে বাতাসে জমে উঠলো কুয়াশার আবছায়া, তাতে রাত্রি তার সৌন্দর্য এতটুকুও হারালো না; বরং জোছনার আলো ক্রমশ মোহনীয় হয়ে উঠলো তাতে। জমাট আড্ডায় মন চাইছিলো কেউ যদি গাইতো ' নিশি ভোর হলো জাগিয়া, পরানো পিয়া...'

পরদিন ছিলো বৈচিত্র্যময় একটা দিন। সকালে বেরুলাম মাছ শিকারে, নৌকায় কয়েকবার জায়গা বদল করেও খুব লাভ হল না :( একটা ছোট মাছ ধরা পরলো, কিন্তু আমার সাথের সুইডিশ কলিগ লিনাস বলল এতো ছোট  একটা মাছ দিয়ে আমাদের কি হবে? মাছটা ছেড়ে দিয়ে মৎস্যপর্ব ইস্তফা দিলাম। ব্যর্থ মৎস্যশিকারে যাত্রাব্যর্থ মৎস্যশিকারে যাত্রা    বন বাদাড়ে কুঁড়িয়ে খেলাম ফল, থেমে থেমে চললো ফুলের ছবি তোলা।
 লাঞ্চ শেষ এবার একেক জনের প্ল্যান ভিন্ন হলো। একজন শুরু করলো ঘাস কাটা, একজন সূর্যস্নান, একজন বই পড়া। আমি নিলাম দৌড়ানোর পথ, লেকের পাড় ধরে ৪ কি মি হাটাপথ, একজনের পূর্ববর্তী রেকর্ড ছিলো ১৯ মিনিটের; আমাকেও জোর করে সেটা ভাঙ্গার দায়িত্ব দেয়া হলো! সময় যায় ৪ কি মি তো শেষ হয় না, অতঃপর ২৫ মিনিটে জায়গামত পৌঁছে মান ইজ্জত কিছুটা বাঁচালাম। অগাস্টের ৩য় সপ্তাহে এসেও দিনের বেলা ভালোই গরম ছিলো, স্বচ্ছ লেকের পানিতে আমরা সাতার কাটলাম। পানিতে ছোট ছোট মাছ দেখা যাচ্ছিলো। 

আজকের ডিনারের মেইন কুক আমি, মেন্যু গরু বিরিয়ানী। জিজ্ঞেস করলাম স্পাইসি চাও না মাইল্ড? সবাই একযোগে চাইলো স্পাইসি হোক :) রান্নার বিভিন্ন পর্যায়ে চললো প্রশিক্ষণ ও স্বাদগ্রহণ। এপিটাইজার তৈরি করলো প্রফেসর, বন থেকে কুঁড়িয়ে আনা মাশরুম দিয়ে।  বন থেকে তুলে আনা মাশরুমবন থেকে তুলে আনা মাশরুম

শেষমেশ awesome একটা ডিনার হলো, সবাই খুব প্রশংসা করলো। ডিনার শেষ মাছ ধরার আরেকটা প্রচেষ্টা চললো, এবার আমি গেলাম না। অন্ধকারে পাড়ে বসে নৌকার মানুষের সাথে গল্প করছিলাম, অনেক জোরে চেচিয়ে আমরা কথা বলছিলাম। এখানে কিছু বলার কেউ নেই, বিরক্ত হবার কেউ নেই, মানা করার কেউ নেই; মনে হচ্ছিলো গলা ছেড়ে কোন জেলেকে যেন বলছি 'ওহে জেলে ভাই, কয়টা মাছ পড়লো জালে?'  রাতের শেষ পর্বে ছিলো সবাই মিলে ম্যুভি দেখা, জেমস বন্ডের বেশ পুরনো একটা ম্যুভি
You Only Live Twice । 

সকালের নাশতা শেষে সবাই মিলে গুছগাছ শুরু হলো, সবকিছু আগের মতো পরিপাটি সাজিয়ে রওয়ানা দিলাম চিরচেনা উপসালার পথে। পথে একটা পরিত্যাক্ত সিলভার মাইনের এলাকায় গেলাম, পথিমধ্যে আরো কতক আয়রন মাইন ও আয়রন প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি পার হয়ে এলাম। ফিরে এলাম মানব রচিত কোলাহলের ভিড়ে।

জানি, যখন শহরতলীর কোলাহলে ক্লান্ত হয়ে উঠবে মন, নির্জনতায় এই ভ্রমণটাকে মিস করবো খুব। 

দেশ কেন মা হবে?

দেহ 
নবজাতক শিশুর ওজন কতইবা থাকে, ৬/৭ পাউন্ড? কেজিতে কনভার্ট করে নিলে প্রায় ৩ কেজির মত। এই শিশুটিই কালের পরিক্রমায় বড় হয়ে উঠে, পূর্ণবয়সে ধরে নিলাম ৬০/৭০ কেজি হয়ে উঠেন। জীবন শুধুমাত্র প্রাণরসায়ন কিনা সে তর্কে যাব না। কিন্তু এই যে ৩ কেজি ভরের একটি শিশুর ৭০ কেজি ভরের হয়ে উঠা, ভরের এই সংযোজন কিন্তু পুরোটাই প্রাণ রসায়ন। একটা শিশুর প্রতিটি নতুন কোষ, হাড়, নখ চুল সবি তৈরি হচ্ছে তার খাবার, পানীয় ও বাতাসের অক্সিজেন থেকে। এমন করে ভেবে দেখেছেন কি, আপনার প্রতি কোষে যেই শর্করা তাই চাষ হচ্ছে কোন খেটে খাওয়া কৃষকের ক্ষেতের ধানে, আমিষ আসছে কোন গরিব দুঃখী জেলের জাল থেকে, ডিমগুলো কোন নতুন দম্পতির ডিমপাড়া একমাত্র মুরগি থেকে? দেহের প্রতি কোষে যেই পানি আপনার জীবন সংহার করে চলেছে তাও এই জমিনের, প্রতিটি DNA সুতোর ভাঁজে ভাঁজে যেই অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, সালফার প্রায় সবি আসছে বাংলাদেশের প্রকৃতি থেকে। শিশু আপনি বড় হয়ে উঠেছেন দেশের মৌলিক কণিকায়।

নিষিক্ত ডিম্বাণুর প্রথম কোষ যেই মাতৃজঠরে তিলে তিলে বড় হয়ে উঠি, ১০ মাস ১০ দিন যার দেহের পুষ্টি- উষ্ণতায় বেঁচে থাকি, যার বুকের দুধে দিনে দিনে বেড়ে উঠি তিনি যদি হন মা; তবে, যার ফল-ফসলে, জল-বাতাসে ছোট্ট শিশুটি একদিন বিশাল মানুষে পূর্ণ হয়, সেও তো মা!   

প্রাণ
দৈহিক ভরের বাইরে যে অনুভূতির আপনি, তার গঠন, কার্যকরণ নিয়েও ভেবেছিলাম কিছুটা। বিজ্ঞান একেও হরমোন নামে প্রাণরসায়নের মারপ্যাঁচে ফেলে ব্যাখ্যা দিতে চাইলেও তার ব্যাখ্যা এখনো বড় অসম্পূর্ণ রয়ে গ্যাছে আমার কাছে। ইমন জুবায়ের ভাইয়ের একটা কথা ব্লগে সবার মনে ধরেছিলো ''জীবন মানে কেবলি যদি প্রাণরসায়ন, জোস্না রাতে মুগ্ধ কেনো আমার নয়ন?'' আলোচনার খাতিরে যদি ধরেও নেই তা প্রাণ রসায়ন, তারপরেও প্রশ্ন থাকে; আমরা বাংলাদেশিরা চাঁদকে, জোস্নাকে যেমন করে উপভোগ করি, অন্য দেশে অন্য সমাজে একি চাঁদের আবেদন মাত্রায় ভিন্ন, কেন?

সুন্দর আরেক উদাহরণ হলো বৃষ্টি। চারিদিকে যখন তপ্ত সূর্যের রুদ্র প্রতাপে জীবন দিশেহারা, বৃষ্টি তখন আমাদের বাংলার জীবনে প্রশান্তির বরমাল্য। বর্ষণ আমাদের ভালোবাসার প্রকাশ, গানে, প্রাণে! নারীর খোপায় বর্ষার ফুল, কবির পংতিতে বর্ষা, গায়কের দরাজ কণ্ঠে, সুরের ছন্দে বর্ষা! একি বৃষ্টি শীতের দেশে মোটেও শান্তির না; বৃষ্টি- বাদলার দিন মানে এখানে, It's a shit day! 
একি বৃষ্টিকে আমরা কিভাবে মনে গেথে নিচ্ছি তাও গড়ে উঠছে আমাদের দেশের আবহাওয়া থেকে।

আমাদের গান, উৎসব, লৌকিকতা মিশে আছে আমাদের প্রতি ঋতু, আবহাওয়া ও প্রকৃতিতে। আমাদের গল্প, কথা, সাহিত্য, মানব- মানবীর যত তুলনা উঠে আসে আমাদের নদী, ঝিল, পুকুর থেকে, পদ্ম শালুক, বালিকার সাতার হয়ে। ব্যাক্তি আপনি ও সামাজিক আপনি দুটোতেই মিশে আছে দেশের প্রকৃতি। প্রাণের যত অনুভূতি তাও গড়েছে যার ছাঁচে, সেও তো মা! 

শিক্ষা 
আমার চারপাশের যে মানুষগুলো, সবাই অনন্য! আমি ভালবাসি, কারো হাসি, কারো ঢং, ভালবাসি কারো চোখের জল। জীবন পথে সাথে পাওয়া সহযাত্রী, সহপাঠী যারা, তাদের অবদান আর পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার উপাদানে সমৃদ্ধ আমার আজিকার জীবন। কারো কাছে শিখেছি হাত বাড়ানো, কারো কাছে ভাব নেয়া, কারো কাছে শিখেছি হৃদয়ের উষ্ণতা, কারো কাছে শীতলতা। জীবের কোষে কোষে তথ্যের প্রবাহ চলে যেমন দেহের স্নায়ুবিক তরঙ্গ হয়ে, আমাদের জনে জনে পারস্পরিক বোঝাপড়াও তো তেমনি একি দেহের স্নায়ুবিক তরঙ্গ হয়ে উঠার কথা। এই পারস্পরিক বোঝাপড়া, শিখে উঠার প্রক্রিয়ার যতটুকু সফলতা, তার যতটুকু ব্যর্থতা তাও এসেছে আমার চারপাশ থেকে।

শিশুর অস্ফুট মুখে বুলি ফুটিয়ে তোলেন যদি মা, তবে হৃদয়ের বুলি, মগজের ভাষা গড়ে দেয় যে পারিপার্শ্ব সেও তো আরেক মা।   




বি দ্রঃ আপনি জানেন হয়তো, আপনার দেহের রং, শরীরের গঠন, উচ্চতা সবকিছুতেই মিশে আছে আপনার খাদ্যাভ্যাস ও বিশ্ব মানচিত্রে আপনার দেশের অবস্থানের উপর। আমাদের জিনোটাইপ ও ফিনোটাইপ বৈশিষ্ট্য নিয়ে অনেক লেখা পাওয়া যাবে।   

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি