২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ের কথা, ডিপার্টমেন্ট থেকে ২দিনের একটা অফিশিয়াল কাম এক্সকারশান ট্যুর ছিল গিমোতে। প্রথমদিন খুবি এক্সাইটিং কাটলেও, ল্যাব থাকায় একদিন থেকেই পরদিন ভোর সকালে আমাকে ফিরে আসতে হবে। যেহেতু একা ফিরে আসবো, পাবলিক বাসে ফেরা লাগবে; কিন্তু আমার কাছে ক্যাশ ছিলনা, ওইসময় বাসভাড়া ক্যাশ পে করতে হতো। যখন খেয়াল করলাম আমার কাছে ক্যাশ ক্রোনার নেই, ততোক্ষণে গেস্ট-হাউজের ক্যাশিয়ার চলে গেছেন। ক্লোজ কলিগ যারা ছিল, কারো কাছেই একজনের বাসভাড়ার জন্য যথেষ্ট ক্যাশ নাই। রিসেপশনের মেয়েটা আন্তরিকভাবে দুঃখ জানালো, যেহেতু ক্যাশ ক্লোজড, সে সাহায্য করতে পারছে না বলে তার আফসোসটা বেশ আন্তরিক মনে হলো।
কাছাকাছি ক্যাশ মেশিন প্রায় ৩০-৪০ মিনিট হাটা পথ, অচেনা জায়গা, রাত প্রায় ১২টা। ভালোই বিপদে পড়লাম, কি করা যায়? ভাবছি। হঠাৎ মেয়েটা বল্লো, ‘তুমি আমাকে একটু সময় দাও, আমি তোমাকে নিয়ে যেতে পারবো, যেহেতু আমার গাড়ি আছে, যেতে আসতে বেশি সময় লাগবে না’। হাফ ছেড়ে বাচলাম, যদিও অপরিচিত কারো সাহায্য নিতে হচ্ছে ভেবে একটু খচখচ করছিলো মন। যাই হোক, মেয়েটা হাতের কাজ কিছুটা গুছিয়ে, অন্য কাউকে রিসেপশানের দায়িত্ব দিয়ে আসলো, ওর সাথে যাচ্ছি, মেয়েটা জার্মান, কাজের জন্য সুইডেন থাকছে, আসা যাওয়া পুরোটা সময় অনেক কথা বার্তা হলো। তো এক সময় বেশ কৌতূহলের বশেই জিজ্ঞেস করলাম, তুমিতো আমাকে চিনো না, সম্ভবত আমাদের অন্য কোনদিন আর দেখাও হবে না, তুমি আমাকে কেনো সাহায্য করলে (specially it needed lots of efforts!)।
এর উত্তরে মেয়েটা যা বলেছিলো কথাটা যেন আমার সারা জীবন মনে থাকে। মানুষের চিন্তা চেতনা, বিবেক কতটা শক্তিশালী ও পরিস্কার হতে পারে চমকে গিয়েছিলাম। মেয়েটা বল্লো, '‘একজন মানুষ যদি অন্য একজনের জন্য কিছু করতে প্রস্তুত না থাকে, তাহলে তার নিজের কোনদিন অন্যের থেকে কিছু এক্সপেক্টাশান থাকা নৈতিক না''।
জার্মানরা পরিশ্রমী, বেশ সৎ এবং খানিকটা ঘাড় ত্যারা টাইপ (ফোকাসড অর্থে) বলেই জানতাম, ওইদিন মেয়েটার নৈতিকতা বোধ, জার্মানদের সম্পর্কে আমার শ্রদ্ধাবোধকে নতুন মাত্রা দিলো, সৌভাগ্যজনকভাবে কলিগদের মধ্যে অনেক জার্মান পেয়েছি এবং তাদের সম্পর্কে উচ্চ ধারণটা এখনো বদলায়নি।
জার্মানদের ভিড়ে এসে অনেকদিন পরে হঠাৎ মেয়েটার কথা মনে পড়লো, যদিও নামটা আজ মনে নেই। ভালো মানুষগুলো ভালো থাকুক!
No comments:
Post a Comment