চারিদিকে ইলিশ নিয়ে মাতম দেখছি। একদল ইলিশের উচ্চমুল্য নিয়ে কৌতুক করছে;
ইলিশ ফ্লেভারড পাঙ্গাস হলেও নাকি চলবে, তবুও নববর্ষে ইলিশ চাই। আরেকদল ইলিশে ফরমালিন হেতু ইলিশহীন নববর্ষ চাচ্ছে। ইলিশ আমার সবচেয়ে প্রিয় মাছ। প্রিয় ইলিশকে নিয়ে জাতির এমন মাতামাতি উপভোগ্য। কিন্তু কেন জানি ইলিশের কথা মনে আসতেই মনটা খারাপ হয়ে গেলো, দক্ষিণাঞ্চলের যেসব জেলেরা আমাদের ইলিশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা জোগান দিয়ে যাচ্ছেন, যাদের অপরিসীম কষ্ট ও বিপদসংকুল কাজের বিনিময়ে আমরা পান্তা ভাতে ইলিশ ভাজা খাই, তাদের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।
ইলিশ ফ্লেভারড পাঙ্গাস হলেও নাকি চলবে, তবুও নববর্ষে ইলিশ চাই। আরেকদল ইলিশে ফরমালিন হেতু ইলিশহীন নববর্ষ চাচ্ছে। ইলিশ আমার সবচেয়ে প্রিয় মাছ। প্রিয় ইলিশকে নিয়ে জাতির এমন মাতামাতি উপভোগ্য। কিন্তু কেন জানি ইলিশের কথা মনে আসতেই মনটা খারাপ হয়ে গেলো, দক্ষিণাঞ্চলের যেসব জেলেরা আমাদের ইলিশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা জোগান দিয়ে যাচ্ছেন, যাদের অপরিসীম কষ্ট ও বিপদসংকুল কাজের বিনিময়ে আমরা পান্তা ভাতে ইলিশ ভাজা খাই, তাদের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।
একবার এক জেলে পাড়ায় গিয়েছিলাম, কয়েকজন জেলের সাথে কথা হল। এক একজন জীবন যুদ্ধে পোড় খাওয়া মানুষ। আমি যখন তীব্র রোদ থেকে বাচার জন্য মাথায় ক্যাপ পড়েছি, বৃদ্ধ চাচার মাথার উপর ছিল একটা গামছা। গরম বালুর উপর খালি পায়ে দাঁড়ানো যাচ্ছিলো না, অথচ তাদের বেশির ভাগেরি দেখলাম পায়ে স্যান্ডল নেই, জামাকাপড়ে জীর্ণ দশা। গায়ের রঙ জ্বলে গেছে। যে বয়সে হয়তো শহুরে একজন চাকুরের বিশ্রামে যাবার কথা ছিল, সে বয়সে এখনো তাকে ঢেউ ভাঙতে হয়। জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে তাকে জাল ফেলতে হয়, টেনে তুলতে হয় আমার পাতের তাজা ইলিশ।
তাদের কষ্ট গুলো আমরা চোখে দেখিনা, মিডিয়া গুলো ওদের কথা কম বলে। তাদের নিয়ে কারো যেন ভাববার সময়ও নেই। কল্পনা করেই তাই তাদের কষ্টগুলোর ভয়াবহতা অনুভব করছি। একবার একটু কল্পনা করে দেখুন তো, হাত-পা বেধে একটা লোককে সমুদ্রে ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে দস্যুরা, একজন মানুষ হাত পা বাধা অবস্থার নোনা পানির সাথে যুদ্ধ করছে, ক্রমাগত তার নাকে মুখে পানি ঢুকে পড়ছে, ধীরে ধীরে ফুসফুস থেকে শেষ দমটুকু বেড়িয়ে যাচ্ছে, লোকটা মারা যাচ্ছেন। উপকূলীয় এলাকায় যখন টর্নেডো হচ্ছে, ঝড় হচ্ছে, নিম্নচাপ হচ্ছে, আমাদের আবহাওয়া অফিস মানুষগুলোকে মাঝে মাঝেই ভুলভাল সংকেত দিচ্ছে। সংকেত প্রচার ও আপদকালীন সময়ে জেলেদের উদ্ধার নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই। নদীতে বলেন, সমুদ্রে বলেন কোথাও নিরাপত্তা দেয়ার জন্য কারো কোন দায়বদ্ধতা দেখি না। এরা যেন সঙ্কুলতার মাঝে যুদ্ধ করে আমাদের জন্য মাছ ধরে আনবে, আমাদের পাতে তুলে দেবে, বিনিময়ে তারা বেচে থাকার নুন্যতম ডাল-ভাতের যোগান পাবে। এই কি মানুষ হয়ে বেচে থাকা?
তৈরি পোশাক উন্নত দেশেগুলোতে বাংলাদেশের একটি পরিচয়। যখন শুনে আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি, অনেককে পেয়েছি যারা গার্মেন্টস নিয়ে কথা বলেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া শ্রমিকদের নিয়ে কথা বলে; সচেতনতাটা লক্ষ্য করি। ইউরোপের ভোক্তা হিসেবে ওরা সুদূর বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ নিয়ে যতটা সচেতন, আমরা ছোট্ট একটি ভৌগলিক সীমানার মধ্যে বাস করেও, যে লোকটি আমার পাতে দৈনিক মাছ তুলে দিচ্ছে তার কথা ভুলে যাই। ২০০ কি মি দূরের যে মানুষটি তার সাথে আমার কত সীমানার ব্যবধান?!
ইলিশময় বা ইলিশহীন যেভাবেই কাটুক, আপনাকে শুভ নববর্ষ!
No comments:
Post a Comment